কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রাম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনি প্রচারের মধ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাসে পেট্রোলবোমা হামলার মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদানের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী কামরুল হুদার নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদার বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন।
রোববার বিকেলে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের মিঞা বাজার লতিফুনেচ্ছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় কামরুল হুদার পাশে উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদার। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় ৮ জন হত্যার মামলার অন্যতম আসামি।
মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যদি চৌদ্দগ্রামের বিএনপি নেতৃবৃন্দ আমাকে গ্রহণ করে, আমি বিএনপিতে যোগ দিতে চাই। আগামী ১২ তারিখ কামরুল হুদাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।”
এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কীভাবে এমন একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পাশে রাখেন।
সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় শহীদ হন জামসেদুর রহমান।
এছাড়া, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নোয়াবাজারে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় ৮ জন নিহত হন। ওই মামলায় সালাহউদ্দিন ১১ নম্বর এবং তার ছেলে নেয়ামত উল্লাহ ৭৯ নম্বর আসামি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ কুমিল্লা শহরের একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করলেও তারা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রশিবির নেতা মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারীর কথিত বন্দুকযুদ্ধেও তার সম্পৃক্ততা ছিল।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির ছায়ায় প্রকাশ্যে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই এটিকে ‘ভোটের রাজনীতির নীতিহীন কৌশল’ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।