ঢাকা | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব বাতিলের প্রতিবাদে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের এক দিনের জন্য হলেও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে এই দাবি জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল–এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি এ কে এম মমাসুম বিল্লাহ বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে কোনো ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই সেই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য হতাশাজনক।
তিনি বলেন, বর্তমান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যখন গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি এই স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। অথচ বর্তমানে অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে তিনি গভর্নরকে দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছেন, এই সংশোধন প্রয়োজন নেই। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণেই তার পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, এক দিনের জন্য হলেও তার পদত্যাগ একটি নৈতিক বার্তা দেবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্বকে সামনে আনবে।
এ কে এম মমাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনে এগিয়ে থাকা দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত এবং আইনি কাঠামো সুসংহত করার লক্ষ্যে গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, তার আগে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে অর্থ উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারে প্রয়োজনীয় এই সংস্কার উদ্যোগে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, একটি স্বাধীন, সক্ষম ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া আর্থিক খাতের সংস্কার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা সম্ভব নয়। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার হলেও বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন অধ্যাদেশ প্রণয়ন না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।