ঢাকা | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ মিটার এলাকায় সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। আজ বিকাল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন বাতিল না হলে এই কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জুলাই রেভল্যুশেনারী জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ)-এর সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল ফারজী এক বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রজ্ঞাপন সরাসরি নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে। ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন সাংবাদিকতার মৌলিক সরঞ্জাম। নির্বাচনকালীন বাস্তবতা দ্রুত তুলে ধরা এবং জনগণকে তাৎক্ষণিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন অপরিহার্য।”
ইসরাফিল ফারজী বলেন, মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অর্থ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা। এটি শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা নয়, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার শামিল।
বিবৃতিতে তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “হাসিনা আমলেও মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ করে দিনের ভোট রাতে করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে তিনটি জাতীয় নির্বাচন বিশ্বব্যাপী প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এবারও একই ধরনের কিছু ঘটছে কি না—সে প্রশ্ন জনমনে তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সহযোগিতা করা উচিত। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কখনোই নির্বাচনী শৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়; বরং স্বাধীন সাংবাদিক উপস্থিতিই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম প্রধান নিশ্চয়তা।
ইসরাফিল ফারজী বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আজ বিকাল ৫টার মধ্যে যদি এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে সাংবাদিক সমাজ নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। এ থেকে যদি কোনো ভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার সম্পূর্ণ দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।”
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি জনগণের জানার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সেই অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।