সাবেক সরকারের উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়েব তার এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তিক মন্তব্য করে তিনি লিখেন, সরকার ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ব্যস্ত ছিল (৩৭ হাজার দেয়া হচ্ছে এই ফেইজে), কিছু ঈমাম ও মুয়াজ্জিনদের (ইউনিয়ন পর্যায়ে ১/২ জন করে) ভাতা দেয়া হয়েছে। সরকার এখন ফার্মার কার্ড নিয়ে ব্যস্ত আছে, যা ১লা বৈশাখে পাইলট ফেইজ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে। সরকার বাজেট নিয়ে ব্যস্ত থাকছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এতে সামষ্টিক অর্থনীতির রোগ সারাবে কিনা? মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে কিনা এবং বিনিয়োগ আদৌ বাড়াবে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ সূচক বলার সুযোগ নাই। কেননা, যে কোনো ম্যাসিভ স্কেলের অলস ভাতা মূল্যস্ফীতি তৈরি করে এবং রাজস্বের উপর চাপ তৈরি করে, যা আন-সাসটেইনেবল।
দেশে রেমিট্যান্সের উপর ২,৫% প্রণোদনা আছে বহু বছর ধরে। এটা বন্ধ না করে আপনি মূল্যস্ফীতি ৬-৭ এর নিচে আনতে পারবেন না। আবার দেখুন, ঈদে গারমেন্টসকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হল। কেন?
ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনী যন্ত্রপাতিতে) কেনায় নয়। জাস্ট রোজা ও ঈদের বেতন দেয়ায়। ৪০ বছরের পুরানো ইন্ডাস্ট্রি কর্মীদের বেতন দিতে পারে না, অর্থাৎ সরকার বেসরকারি কোম্পানির রপ্তানিমূখী শিল্পের ওপেক্সে ইনভেস্ট করছে। ভেরি আন-লাইকলি কেইস। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমরা যদি দেখি প্রডাকশন আছে, ওর্ডার আছে, বিক্রি আছে কিন্তু ওপেক্স চালাতে পারে না, কর্মীর বেতন দিতে পারে না, এটা কোনো না কোনো লুকোচুরি বা জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।
সুদের হার মাফ করতে গিয়ে সরকার মূল ঋণও মাফ করে দিয়েছে, সেখানে ১১৫০ কোটি টাকার বাড়তি চাপ এসেছে। আমরা জানি, এরা সবাই কৃষক নয়।
ফলে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, ভাতা, সুদ-আসল, মাফ, গারমেন্টসের প্রণোদনা এগুলির সামারি হচ্ছে- বিশাল রাজস্ব চাপ, অটেকসই, আন বিয়ারেবল। ফলে সরকারের ঋণ বাড়বে। (আবার রাজস্ব না বাড়লে, বাড়তি ঋণ নেয়া আত্মঘাতী)। রাজস্ব না বাড়লে যে সংখ্যায় দিচ্ছে ৩০ হাজার থেকে কয়েক লাখ, এতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এতে ইনফ্ল্যাশন তেমন বাড়বে না।
আমার ধারণা। রাজস্ব বেশ না বাড়লে ফান্ড জোগান হবে না, তাই কোটি মানুষকে দেওয়া সম্ভব হবে না আদৌ। কারণ আপনি পেনশন, শিক্ষা উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বন্যা ঝড়ের দুর্যোগের ফান্ড, টিসিবি সব বন্ধ করতে পারবেন না। ডুপ্লিকেশন ও মিস অ্যালোকেশন থামানো যাবে যদি রাজনৈতিক চাপ, ঘুষ না থাকে, ডেটাবেজ নিয়ার-একুরেট, ইন্টার-মিনিস্ট্রিয়াল ইন্টার অপারেবল হয়। ব্যক্তি ও পরিবারের আয় বাড়া-কমা, দারিদ্র্য ও দুর্যোগ পরিস্থিতির সাথে ডায়নামিক হয়। নাইলে ভুল যায়গায় ভাতা ভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ পাইল-আপ হবে, নাইলে হাতে প্লাস্টিক কার্ড থাকবে কিন্তু কার্ডে টাকা আসবে না।
এই অর্থবছরে এখনই রাজস্ব ঘাটতি ৫০ হাজার কোটির কাছাকাছি। ফলে, আমাদের এখানে ট্রিপল ক্রাইসিস চলছে।
১। ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস।
২। কর জিডিপি হার বিশ্বের সবচেয়ে কম বলে চলছে ফিস্ক্যাল ক্রাইসিস/রেভেনিউ ক্রাইসিস, ট্যাক্স নেট ক্রাইসিস, ট্যাক্স কালেকশন ইনফ্রা ক্রাইসিস।
৩। আছে দুর্নীতি ও স্বল্প দক্ষতা জনিত গভর্নেন্স ক্রাইসিস।
আমাদের পথ কণ্টকাকীর্ণ। এটা পাড়ি দিতে হবে।