মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ২৯ মার্চ ২০২৬
মরক্কোর কথাসাহিত্যিক লতিফা লাবসিরের কিশোর উপন্যাস ‘তিফু সাবিবা’ পাঠক ও সমালোচকের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। বইটিতে অটিজম আক্রান্ত কিশোর রাজির গল্পের মাধ্যমে ভিন্নতা ও মানবিকতার বার্তা ফুটে উঠেছে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাজি, একজন অটিস্টিক কিশোর, যার দৃষ্টিকোণটি পাঠকের সামনে আসে ছোট বোন হিবা-এর কণ্ঠে। হিবা রাজির ভিন্ন জগতকে ধৈর্য, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার আলোকে তুলে ধরেছে। লেখিকার সৃজনশীলতা এখানেই স্পষ্ট—অটিজমকে চিকিৎসাবিদ্যা বা কঠোর তথ্যের আলোকে নয়, বরং পারিবারিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে হৃদয়স্পর্শীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চরিত্র ও প্রতীকিক অর্থে উপন্যাস সমৃদ্ধ। রাজি (প্রত্যাশী), হিবা (দান), রাদিয়া (সন্তুষ্টি), আমাল (আশা)—প্রতিটি চরিত্র গল্পের মানবিক গভীরতা প্রকাশ করে। বিশেষ প্রতীক হলো পুতুল সাবিবা, যা রাজি ও বাইরের পৃথিবীর মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
লেখিকা দেখিয়েছেন ভিন্নতার সৌন্দর্য ও সংগ্রামের গভীরতা। রাজির দৈনন্দিন আচরণ যেমন—নিয়মিত রঙের টুথব্রাশ ব্যবহার, সংখ্যা গণনা বা মুক্তার মালা গাঁথা—এসব কেবল অটিজমের উপসর্গ নয়, বরং তার নিজস্ব জগতের নিয়ম। পরিবারের ধৈর্য, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই জগৎকে বাচ্চারা এবং প্রাপ্তবয়স্করা বোঝার সুযোগ পায়।
শিল্পকৌশল ও ভাষাশৈলীও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাস্তবতা ও কল্পনার মিশ্রণ, সহজাত ভাষা এবং দৈনন্দিন ঘটনার মধ্যে মানবিক উপলব্ধি ফুটে ওঠার মাধ্যমে উপন্যাসটি কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক—উভয় পাঠকের জন্যই আকর্ষণীয় হয়েছে।
‘তিফু সাবিবা’ কেবল কিশোর উপন্যাস নয়; এটি মানবিক উপলব্ধি ও সহানুভূতির এক শক্তিশালী সেতু, যা ভিন্নতা ও সৌন্দর্যের বার্তা পৌঁছে দেয় সকল পাঠকের কাছে।