প্রকাশ , ০২ এপ্রিল ২০২৬
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুম ও হত্যার ঘটনায় দায়ী বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে নিহত সজলের মা ভুলূ বেগম জবানবন্দি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
ভুলূ বেগম ট্রাইব্যুনালে বলেন, তিনি ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় দুই ছেলে—আজাদ ও সজল—সহ বসবাস করতেন। ২০১১ সালের ৪ জুলাই দুপুরে সজল বাসায় ভাত খেতে চাইলেও, পরে একটি ফোন আসার পর সে বাসা থেকে বের হয়। ভুলূ বেগম জানান, সজল বাইরে যাওয়ার আগে জানালার মাধ্যমে তাকে ডেকে বলেছিলেন ভাত খেয়ে যা, কিন্তু সজল বলে “আমি একটু কথা বলে আসি, পরে দুজনে একসঙ্গে খাবো।” এরপর সজল আর ফিরে আসেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ৮–৯ দিন ধরে তাকে খুঁজতে গিয়ে হাসপাতাল ও থানায় গেছেন, কিন্তু কোনো সহযোগিতা পাননি। ২০১১ সালের ১৩ জুলাই গাজীপুরের একটি হাসপাতালে দুটি লাশ পাওয়ার খবর পান। আজাদ সেখানে গিয়ে সজলের লাশ শনাক্ত করেন এবং ১৪ জুলাই জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ভুলূ বেগম জবানবন্দিতে জানান, সজল বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। পরে তিনি জানতে পারেন, রাজনীতি করার কারণে র্যাবের বড় অফিসার তাকে গাজীপুরে হত্যা করেছেন। সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ছেলের হত্যার বিচারের দাবি জানান।