বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে সম্প্রতি একটি আলোচিত মন্তব্য এসেছে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মুখ থেকে। সাংবাদিক প্রশ্ন করেন ধরুন আপনারা সরকার গঠন করার নতো সংখ্যা পেয়ে গেলেন তাহলে কি বাংলাদেশে শরিয়া আইন কায়েম করবেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “আপনাকে কে বলেছে আমরা বাংলাদেশে শরিয়া আইন কায়েম করবো?” এই বক্তব্য মুহূর্তেই আলোচনার ঝড় তোলে। এর প্রেক্ষিতে নোমান আহমেদ তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বলেন একটি আদর্শিক ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে মানুষের প্রত্যাশা সবসময়ই ছিল স্পষ্ট লক্ষ্য, সুসংহত দিকনির্দেশনা এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থান।
রাজনীতির ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত হয়েছে আদর্শের রাজনীতিতে লক্ষ্য কখনো গোপন থাকে না। জনগণের সামনে পরিষ্কার এজেন্ডা হাজির করাই আদর্শিক আন্দোলনের শক্তি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার তপ্ত মরুভূমিতে যখন ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তখন কোনো গোপন কৌশল বা ধোঁয়াশা রেখে দেননি। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” সেই স্পষ্টতার কারণেই তাঁর অনুসারীরা বুঝেছিল তাঁরা কোন লক্ষ্য নিয়ে পথে নেমেছে এবং কোন সমাজ বিনির্মাণ করতে যাচ্ছে।
কিন্তু যখন একটি দল বা নেতৃত্ব নিজেদের মূল আদর্শকে অস্বীকার বা আড়াল করার চেষ্টা করে, তখন সেটি জনগণের কাছে বিভ্রান্তি তৈরি করে। প্রশ্ন জাগে আপনাদের রাজনীতি কি কেবল ক্ষমতার অংশীদারিত্বের জন্য, নাকি সত্যিই একটি আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য? যদি জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা হয়, তবে সেটি গোপন করার কিছু নেই; আর যদি লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়, তবে জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে সেটি জানানোই উচিত।
আজকের বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো আস্থা সংকটে ভুগছে। কারণ অধিকাংশ দল ক্ষমতার রাজনীতি করে, আদর্শের রাজনীতি নয়। আর যদি জামায়াতও আদর্শের প্রশ্নে দ্বিধা বা আপসের পথে যায়, তবে সেটি তাদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। কারণ জনগণ তাদের চেনে ইসলামী আন্দোলনের দল হিসেবে, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বানদাতা হিসেবে।
সুতরাং “আদর্শের রাজনীতিতে লক্ষ্য কখনো গোপন থাকে না” এই সত্য আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রাজনীতিতে টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো স্পষ্ট অবস্থান, অকপট দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বচ্ছ দিকনির্দেশনা। জামায়াত যদি সত্যিই জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায়, তবে তাদেরকে সাহসিকতার সঙ্গে নিজেদের লক্ষ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতেই হবে। অস্পষ্টতা বা অস্বীকার আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে যায় না; বরং সেটি আন্দোলনের শিকড়কেই দুর্বল করে দেয়।