সংবাদ ,
১৯৯৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এক অমানবিক অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস। যাঁরা একসময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন—সেই নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক বীরদের কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়া হতো পুরনো ও ভাঙ্গাচোরা প্রিজন ভ্যানে।
প্রতিদিনের মতো এক দুঃসহ প্রহর ছিলো সেই যাত্রা। বীরদের হাতে পরানো হতো ভারী লোহার হ্যান্ডক্যাপ, একে অপরের সঙ্গে বাঁধা থাকতো দড়ি দিয়ে। ভ্যানের ভেতর বসার মতো জায়গাও থাকতো না; অনেকে দাঁড়িয়েই যেতে বাধ্য হতেন। এ যেন স্বাধীন দেশের মাটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, পরাধীনতার প্রতীক হয়ে ওঠা এক করুণ দৃশ্য।
ছবিতে দেখা যায়, দেশপ্রেমিক বীর কর্নেল ফারুক প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে বাইরের মুক্ত পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর চোখে যেন ফুটে উঠেছে এক গভীর প্রশ্ন দেশপ্রেমের জন্য কি এমন শাস্তিই প্রাপ্য?
তাঁদের একমাত্র অপরাধ তাঁরা দেশকে প্রাণের চেয়েও ভালোবেসেছিলেন। মানুষের স্বাধীনতা, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন আগুনে, অবলীলায় ত্যাগ করেছিলেন ব্যক্তিজীবন ও স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম পরিহাসে সেই বীরদেরই দেখা গেছে লোহার শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে আদালতের পথে।
এই দৃশ্য শুধু একদিনের নয় বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার নির্দয় আচরণের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সময় বদলেছে, সরকার বদলেছে, কিন্তু বীরদের সেই অপমান আজও ইতিহাসের বুক থেকে মুছে যায়নি।
আজ যখন নতুন প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখন ইতিহাসের এই অধ্যায় মনে করিয়ে দেয় দেশপ্রেম শুধু স্লোগানে নয়, ত্যাগের মর্মে নিহিত। এবং সেই ত্যাগের প্রতিদান যেন আর কখনও অবহেলা বা অপমান না হয়, সেটিই হোক সময়ের দাবি।
🕊 রিপোর্ট: ডেইলি ক্রাইসিস বিডি বিশ্লেষণ ডেস্ক