শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার খোকন চন্দ্র দাস হত্যার পর পরিবার হারিয়েছে একমাত্র আয়ের উৎস; নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে স্ত্রী ও সন্তানরা।
শরীয়তপুর, বাংলাদেশ | ৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রায় ২০ বছর ধরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কেউরভাঙা বাজারে ব্যবসা চলাচ্ছিল খোকন চন্দ্র দাসের। মোবাইল ব্যাংকিং ও ওষুধের দোকান থেকে সংসারের চালানো হতো। কিন্তু খোকন দাস নিহত হওয়ার পর পরিবার এখন দিশাহারা। একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে, আর নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার ভয়ভীতিতে দিন কাটাচ্ছে।
খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রলজাতীয় তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খোকন হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্যা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক জানিয়েছেন, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং খোকন দাসের পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
পরিবারের অবস্থার চিত্র:
- খোকনের স্ত্রী সীমা দাস ও তিন সন্তান এখন দিশাহারা।
- খোকনের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ রাশিয়ায় কাজের সন্ধানে রয়েছেন। মেজ ছেলে শান্ত দশম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট ছেলে আদর মাত্র ৪ বছর বয়সী।
- বৃদ্ধ বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে চলে গেছে, এখন কী নিয়ে বাঁচব? ছেলের বউ আর নাতিদের কে দেখবে?”
স্থানীয় ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য:
- খোকনের আত্মীয় নিখিল দাস জানিয়েছেন, “দুর্বৃত্তরা জানত, সে রাতে নির্জন পথে টাকা নিয়ে ফিরেন। হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
- স্ত্রী সীমা দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দোকানই ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। এখন সেটা বন্ধ। বড় ছেলে বিদেশে, সেখানে আয় করতে পারছে না। জানি না কীভাবে চলব।”
খোকন দাসের হত্যা কেবল পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।