চট্টগ্রাম, ১২ মার্চ ২০২৬
দেশের সমুদ্রসীমা ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী টহল ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নৌবাহিনী জানায়, দেশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থানরত এলএনজি, এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল ও জেট জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির মূল উৎস ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও দ্রুতগামী বোট মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমুদ্রপথে সার্বক্ষণিক টহল, আকাশ নজরদারি এবং সন্দেহজনক জাহাজ বা নৌযান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ নোঙর, চলাচল এবং বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গমন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য নাশকতাসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং দেশের জ্বালানি পরিবহনব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতেই এ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য নাশকতা, জলদস্যুতা, চোরাচালান বা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নৌবাহিনী আরও জানায়, এই কার্যক্রম পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।