[Daily Crisis BD] ঢাকা
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
আজ ৭ জানুয়ারি (বুধবার) বিকাল ৩টায় তার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক এমপি), অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. তাহের অভিযোগ করেন, একই আইনে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়ে কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। একই মামলা ও একই আদালতের প্রেক্ষাপটে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলেও জামায়াতের সিনিয়র নেতা ড. হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে দলীয় ডিসি ও এসপিদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ প্রশাসন নিয়োগ দিতে হবে।
দ্বৈত নাগরিকত্বের ইস্যুতেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একই কারণে অন্য দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হলেও কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে—যা কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।
ডা. তাহের আরও বলেন, নির্বাচনে সমান প্রচারণার সুযোগ নেই। একটি দলকে ব্যাপক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সব দলের জন্য সমান প্রচারণা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিনিধি দল।
প্রটোকল ও নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত প্রটোকল জনমনে পক্ষপাতের ইম্প্রেশন তৈরি করছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ করছে, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, কমিশন নীতিগতভাবে সম্মত হয়ে জানিয়েছে—৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ; অন্যথায় দেশ আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।