চরমোনাই পীর ও খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ১১-দলীয় জোটে অনিশ্চয়তা
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত-ই-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোটে ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে জোটের ঐক্য এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জোট-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জামায়াত-ই-ইসলামি ৪০টি আসন ছাড় দিতে সম্মত হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন চরমোনাই পীর। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাংক রয়েছে এবং সে অনুযায়ী আরও বেশি আসন পাওয়ার যৌক্তিকতা আছে।
জামায়াত প্রাথমিকভাবে ৪০টির বাইরে আরও কিছু আসন আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই পীরের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ফলে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
একই সময়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে। রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী তাদের দাবিকে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখছে জামায়াত। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত চরমোনাই পীরের দল ও খেলাফত মজলিস জোট ছেড়ে আলাদা নির্বাচন করতে পারে।
মঙ্গলবার ১১-দলীয় জোটের মধ্যে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করে যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
এদিকে প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াত-ই-ইসলামি এক ডজনের বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি। বিপরীতে চরমোনাই পীরের দল ও খেলাফত মজলিস ওই আসনগুলোতে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ছাড়ের ফলে ছোট দলগুলো জামায়াতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত-ই-ইসলামি আট দলীয় ইসলামী জোটের ব্যানারে রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। পরে জুলাই যোদ্ধা সংগঠন এনসিপি (NCP), মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং মুজিবুর রহমান মঞ্জু ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের এবি পার্টিকে নিয়ে ১১-দলীয় জোট গঠন করা হয়।
নতুন এই জোট গঠনের পর জামায়াতের সঙ্গে থাকা অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর গুরুত্ব কমতে শুরু করে। বিশেষ করে এনসিপির অন্তর্ভুক্তির ফলে জামায়াতের ওপর চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ছোট ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আসনসংকটের আশঙ্কা বাড়ে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগেই ১১-দলীয় জোট সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে পরদিন দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময়স্বল্পতার কারণে এমনটি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
জামায়াত-ই-ইসলামি এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেয়, যা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।