ইইউ আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত মার্কিন–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেন
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একত্রিত আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবিত মার্কিন–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই চুক্তিটি ইইউ’র আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি হিসেবে নির্দেশ করেছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক দল আইনপ্রণেতা, যাদের মধ্যে ডেনিশ আইনপ্রণেতা পের ক্লাউসেনও রয়েছেন, ইইউ’র শীর্ষ নেতৃত্ব — ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সভাপতি ও অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের — একটি চিঠিতে লিখেছেন, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আচরণ ইইউ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে।
আইনপ্রণেতারা উল্লেখ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের সদস্যদের বক্তব্যে—যাতে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে—আন্তর্জাতিক আইন ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান প্রদর্শিত হয়েছে।
এই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, “আন্তর্জাতিক নিয়ম-শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক সম্প্রসারণের হুমকি কখনই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি ইতোমধ্যেই অনিশ্চিত বিশ্বকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলবে।” আইনপ্রণেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই অবস্থা চললে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া বিরাম দেওয়া উচিত।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগের অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা প্রয়োজন বলে বার্তা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডিক অবস্থান ন্যাটোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং যুক্তরাষ্ট্র চায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে। তবে গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও ডেনমার্ক উভয়ই স্বীকার করে দিয়েছে যে তারা ডেনমার্কের সাথে থাকার পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দখল/নিয়ন্ত্রণ বিবেচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।