ঢাকা, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের মৎস্য সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকার ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। এতে নদী, নালা ও অন্যান্য জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা বা ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে মঙ্গলবার ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন অধ্যাদেশে ‘জলাশয়’-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নদী, ঝর্ণা, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাওড়, হ্রদ, প্লাবনভূমি, পুকুর, দিঘি, ঘের এবং ঋতুগতভাবে ডুবে থাকা এলাকা বা জলাভূমিও এখন আইনের আওতায় আসবে।
সংশোধিত আইনের ৩ নম্বর ধারায় মাছ শিকারীদের জন্য বিদ্যুৎ প্রবাহিত সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন অধ্যাদেশে ‘ওএসিম (Area-specific Conservation Measures)’ ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর ফলাফল অর্জন করা যাবে।
৪খ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় জলাশয়ে মৎস্য বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করতে সক্ষম।
মৎস্য সম্পদ ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ১৯৫০ সালের পুরনো আইন সংশোধন করা হয়েছে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।