৯০ শতাংশ সদস্যের সমর্থনের দাবি, সিদ্ধান্তহীনতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ঢাকা
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
পুলিশ বাহিনীর ইউনিফর্ম আবারও পরিবর্তনের আলোচনায় এসেছে। বাহিনীর ৯০ শতাংশের বেশি সদস্য আগের আওয়ামী আমলের পোশাকে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আওয়ামী লীগ শাসনামলের নীল-জলপাই মিশ্রিত পুরোনো ইউনিফর্মে ফেরার দাবি উঠেছে বাংলাদেশ পুলিশের ভেতরে। পুলিশ সদর দপ্তর সব ইউনিট থেকে মতামত সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বাহিনীর ৯০ শতাংশেরও বেশি সদস্য পুরোনো ইউনিফর্মে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, এই পোশাকেই পুলিশের পরিচিতি ও পেশাগত স্বাচ্ছন্দ্য বেশি ছিল।
তবে মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ চলছে বলে জানা গেছে।
সিদ্ধান্তহীনতা ও রাজনৈতিক বিবেচনা
সূত্র বলছে, পুরোনো পোশাকে ফিরে গেলে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক স্মৃতি ও বিতর্ক আবার সামনে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। সরকার ও নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে পুলিশের অভ্যন্তরে মতামত পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে পোশাক পরিবর্তনের পক্ষে মত দেওয়া হয়েছিল, এখন আবার পুরোনো পোশাকে ফেরার দাবিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জুলাই-আগস্ট প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে পুলিশের ইউনিফর্ম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ইউনিফর্মকে কেন্দ্র করে নতুন প্রতীকী বিতর্ক তৈরি করে।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইউনিফর্ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার লক্ষ্য ছিল বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠন। তবে সেই নতুন ডিজাইনও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং মাঠপর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়ে।
বর্তমান মতামত ও অভ্যন্তরীণ চিত্র
পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ সদস্য পুরোনো ইউনিফর্মেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাদের মতে, ওই পোশাক সাধারণ মানুষের কাছে বেশি পরিচিত এবং পেশাগত মর্যাদার অনুভূতি তৈরি করে।
তবে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একটি অংশ মনে করছে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বার্তা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে।
সম্ভাব্য নতুন ডিজাইন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন ইউনিফর্মের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিকল্প রঙ ও ডিজাইন বিবেচনা করা হচ্ছে—হালকা ছাই, নেভি ব্লু বা পুরোনো শেডের আধুনিক সংস্করণ। পাশাপাশি টেকসই কাপড়, বডি ক্যামেরা সংযুক্ত সুবিধা এবং ডিজিটাল আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
জনমত ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনিফর্ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, পোশাক পরিবর্তনের চেয়ে পুলিশের আচরণ ও জবাবদিহি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, ইউনিফর্ম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে দুষ্কৃতকারীরা সেটি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র
- পুলিশ সদর দপ্তর (নির্ভরযোগ্য সূত্র)