স্থল সীমান্ত ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর নির্ভর করে অবরোধ ভাঙার দাবি—আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা
তেহরান
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ মোকাবিলায় ইরানের একাধিক বিকল্প রয়েছে বলে দাবি করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দীর্ঘ স্থল সীমান্ত ইরানকে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ হতে দেবে না।
মূল প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য নৌ অবরোধের প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক Foad Izadi বলেছেন, ইরান এ ধরনের অবরোধ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে।
এর আগে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ Stephen Miller মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছে। তার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইজাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতা ‘ভুলে যাচ্ছে’।
Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজাদি বলেন, ইরানের প্রায় ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ স্থল সীমান্ত রয়েছে, যা দেশটিকে বিকল্প বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার সুযোগ দেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের উত্তর ও পূর্বের প্রতিবেশী দেশগুলো মিত্র হিসেবে সহায়তা করছে, ফলে শুধুমাত্র নৌ অবরোধ দিয়ে দেশটিকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ। বিশেষ করে United Nations Security Council-এর অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের অবরোধকে অনেক ক্ষেত্রে আগ্রাসনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইজাদি বলেন, পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বেসামরিক জনগণকে শাস্তি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এ কারণে ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলায় অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র
- Al Jazeera