৫৭ হাজার টনের বেশি মার্কিন ভুট্টা নিয়ে জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে, আমদানিতে ব্যয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা
ঢাকা, বাংলাদেশ — ৭ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টার একটি বড় চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে মার্কিন ভুট্টার খালাস কার্যক্রম শুরু হয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সদরঘাট এলাকার কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ভুট্টার চালান খালাস শুরু হয়। প্রায় ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন ভুট্টার এই চালানটি প্রায় সাড়ে সাত বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এলো।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, এই চালানটি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। চালানটি আমদানি করেছে পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ জুলাই শ্রীপুরভিত্তিক এজি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করেছিল।
দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি উপলক্ষে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ‘The Return of US Corn to Bangladesh’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এরিন কোভার্ট বলেন,
“২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে উৎপাদিত এই ভুট্টা বাংলাদেশে এসেছে। দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা আবার বাংলাদেশে ফিরেছে। এর মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা পূর্ণ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে পাঠানো হয়েছে। এই আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশে পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য প্রাণী পুষ্টির নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চালানটি রপ্তানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানিতে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত টনপ্রতি খরচ পড়েছে ২৪৬ মার্কিন ডলার। একই সময়ে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ভুট্টার টনপ্রতি মূল্য ছিল ২৫১ থেকে ২৬০ ডলার। ফলে তুলনামূলকভাবে কম দামে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা আমদানি সম্ভব হয়েছে।
ভুট্টার চালানটি এমভি বেলটোকিও নামের একটি জাহাজে করে আনা হয়। প্রথমে বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা জাহাজ থেকে ধাপে ধাপে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে আনা হয়। পরে ক্রেনের মাধ্যমে ট্রাকে বোঝাই করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গুদামে পাঠানো হচ্ছে।