কলকাতা, ভারত, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারতের কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্রদের মৃত্যুর দায় স্বীকার করেছেন। তিনি একই সঙ্গে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার বিজেপিঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘খোলা হাওয়া’ আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে জয় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা দেন। প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় উঠে আসে তার অনুশোচনা, স্বীকারোক্তি এবং নির্বাচনের বিষয়ক সতর্কবার্তা।
জয় স্পষ্টভাবে জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত নিরপরাধ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় তিনি নিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবি যথার্থ ছিল। সরকারের পূর্ববর্তী কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং আদালতের নির্দেশে তা পুনঃপ্রবর্তন পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তবে আন্দোলনের আড়ালে থাকা কট্টরপন্থি ও জঙ্গিরা পরিস্থিতি হিংসাত্মক করে তোলায় সরকারের দায় সীমিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে আয়োজিত এই ভোট ‘একতরফা’ ও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিএনপি প্রাধান্যপ্রাপ্ত একটি রাজনৈতিক হাতের পুতুল এবং জামায়াত ও পাকিস্তান নেপথ্য থেকে প্রভাব বিস্তার করতে পারছে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
জয় আরও জানান, ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে কয়েকশ আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ নিহত হওয়ার দায়ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারবে না। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়ার পথ থেকে রোধ করা এখন শেষ সুযোগ।
উক্ত অনুষ্ঠানে জয় বারবার নেপথ্যের ষড়যন্ত্র ও নির্বাচনের অনৈতিকতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।