ব্যক্তি ও দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখাই ২৪–পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের মূল চেতনা
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাজনৈতিক বৈধতা কখনোই সহজে আসে না—তা আসে দীর্ঘ লড়াই, ত্যাগ ও ব্যক্তিগত ছাড়ের মধ্য দিয়ে। বর্তমান রাজনৈতিক জোটে ব্যক্তি নয়, বহু দল নিজেদের আসন, ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধা ত্যাগ করছে শুধুমাত্র একটি লক্ষ্যে—দেশের ঐক্য ধরে রাখা এবং নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি শক্ত করা।
বাংলাদেশের রাজনীতি বহু বছর ধরে ব্যক্তি স্বার্থ ও ক্ষমতা কেন্দ্রিক ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক জোট সেই ধারা থেকে সরে এসে এক ভিন্ন বাস্তবতার জন্ম দিচ্ছে, যেখানে শুধু ব্যক্তি নয়—দলও ছাড় দিচ্ছে, এমনকি ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সম্ভাবনাও ত্যাগ করছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে।
এই ঐক্যের পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস। কত তরুণ জীবন দিয়েছে—সেই ত্যাগের পরই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি দেশকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই আজ প্রয়োজন ব্যক্তি অবস্থান থেকে সরে এসে সম্মিলিতভাবে ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যেন রাজনীতি হয় মানুষের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।
এনসিপি শুরু থেকেই একা দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এগিয়েছিল। কিন্তু সময় ও বাস্তবতা এনসিপিকে নতুন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বিশেষ করে হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশের স্বার্থে জোটের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। জোট নিয়ে আলোচনা যেমন বাস্তব, তেমনি সমালোচনাও অনিবার্য। তবে শেষ পর্যন্ত সংগঠন পরিচালিত হয় সামগ্রিক সিদ্ধান্তে।
এই ঐক্য আজ যেভাবে দৃশ্যমান, তাতে হাদি বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই আনন্দিত হতো। তার স্বপ্ন ছিল সংসদে যাওয়ার। হাদি নেই, কিন্তু তার সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং তার স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য হলেও এই ঐক্য ধরে রাখা একটি নৈতিক দায়িত্ব।
এই রাজনৈতিক যাত্রায় অনেকেই নিজের নিরাপত্তা, পরিবার ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার মূল্য হিসেবে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে, তবু পিছু হটার সুযোগ নেই। দেশের প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থেকেই এই পথচলা।
কেউ কেউ বলছে—আসন ছাড় দিয়ে কেউ হেরে গেছে। কিন্তু এই আজাদির লড়াইয়ে জয় মানে শুধু আসনের হিসাব নয়। ঐক্য নিজেই এক ধরনের বিজয়। এই লড়াই দীর্ঘ, আর সেই দীর্ঘ যাত্রায় ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।
নাহিদ ইসলাম প্রসঙ্গে বলা হয়—তিনি বয়সে ছোট হলেও নেতৃত্বে বড়। ২৪-এর আন্দোলনে যেমন তার ওপর আস্থা ছিল, তেমনি আজও তার সিদ্ধান্তে পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। এই আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।