ইসির খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া
ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের খসড়া প্যানেল প্রস্তুত করেছে। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের মধ্যে এ বিষয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে—অনেকে দায়িত্ব নিতে নারাজ এবং অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অন্তর্ভুক্তির তদবির চালাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের খসড়া প্যানেলে মোট কয়েক লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রয়োজন হবে। এই তালিকা তৈরি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি খসড়া প্যানেল প্রস্তুত করা হয়েছে।
তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পরপরই ইসিতে শত শত অব্যাহতির আবেদন জমা পড়েছে। অনেকের নাম থাকলেও তারা ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে প্রয়োজনে অব্যাহতি চাইছেন। অনেকেই ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোয় সহিংসতার সম্ভাবনার ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন।
অন্যদিকে যোগ্য ও সক্ষম অনেক কর্মকর্তা দাবি করছেন, যোগ্য হওয়ার পরও তারা প্যানেলে রাখা হয়নি। তারা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখা হয়নি। ফলে অনুসন্ধান ও পুনঃবিবেচনার সুযোগ চাইছেন তারা।
ইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করেছে। যারা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আদালতের নির্দেশ বা ব্যতিক্রমী কারণ ছাড়া এ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়াকে যথার্থ মনে করা হবে না ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ হতে পারে।
চূড়ান্ত প্যানেল ঘোষণা হওয়ার আগে ইসি কর্মকর্তারা প্রতিটি অভিযোগ ও আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী ভোটগ্রহণ প্যানেল নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্যানেলের উপর নির্ভর করবে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।
এ পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে—যেখানে দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুকদের উৎসাহ বাড়ানো ও যারা বৈধ কারণে দায়িত্ব নিতে চান না তাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা যাচাই করা হবে।