সিলেট–ঢাকা মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ দয়ামীর কোনাপাড়ায় ফের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা
ওসমানীনগর (সিলেট), বাংলাদেশ — ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সিলেট–ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থলটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শ্যামলী পরিবহন ও এনা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে শ্যামলী পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতদের একজন শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান (৫৫)। অপরজন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার করুয়া এলাকার বাসিন্দা বকুল রবিদাশ (২৬)। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামলী পরিবহনের বাসটি সিলেট থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল এবং এনা পরিবহনের বাসটি ঢাকা থেকে সিলেটের দিকে আসছিল। দুর্ঘটনার সময় ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে দৃশ্যমানতা কম ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়াশার কারণেই চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
স্থানীয়দের দাবি, একই স্থানে এর আগেও একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগে হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ এই স্থানে কার্যকর কোনো সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। নিহতদের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সিলেট–ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।