সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তির দাপটে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রসংসদ নির্বাচন বন্ধের পায়তারা পরিলক্ষিত হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে পেশিশক্তির দাপটে ছাত্রসংসদ নির্বাচন বন্ধের পায়তারা ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রম প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১২ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দিলেও শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পূর্বঘোষিত তারিখেই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমোদন দেয় ইসি।
এরই মধ্যে আজ রবিবার সকাল থেকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শাকসু নির্বাচন বন্ধসহ বেশ কিছু দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দাবিকে উপেক্ষা করে, নিজেদের মাদার পার্টির লেজুড়বৃত্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই উক্ত সংগঠন এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ছাত্রসংসদ নির্বাচন বিরোধী এই অবস্থান মূলত শাবিপ্রবি নয়, বরং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়ার নামান্তর।
শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত তারিখে এবং নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ, হুমকি কিংবা পেশিশক্তির কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের নিশ্চয়তার জন্য নিয়মিত ও কার্যকর ছাত্র সংসদ নির্বাচন। অথচ সেই আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়িয়ে একটি ছাত্র সংগঠন আবারও দলীয় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বেছে নিয়েছে। যদি কারো পেশিশক্তির কারণে নির্বাচন কমিশন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দেয়, তাহলে দেশের ছাত্রসমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।