আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)ভুক্ত দেশগুলোতে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। এদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কর্মী। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নাগরিকের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই ছয়টি দেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্মীদের প্রধান কর্মস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব দেশে বসবাসকারী প্রায় ৬২ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই বিদেশি কর্মী।
জিসিসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও ওমান ছাড়া বাকি চারটি দেশে জনসংখ্যার বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। বহু প্রজন্ম ধরে এসব প্রবাসী কর্মী নির্মাণ, গৃহস্থালি কাজ, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, বিমান চলাচল, চিকিৎসা ও গণমাধ্যমসহ নানা খাতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীরাও কাজ করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা গ্লোবাল মিডিয়া ইনসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জিসিসি দেশগুলোতে বসবাসকারী বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী এসেছে ভারত থেকে। দেশটির প্রায় ৯১ লাখ নাগরিক সেখানে বসবাস করছেন। এরপর রয়েছে বাংলাদেশ, যার প্রায় ৫০ লাখ নাগরিক জিসিসি অঞ্চলে কর্মরত। পাকিস্তানের ৪৯ লাখ, মিসরের ৩৩ লাখ, ফিলিপাইনের ২২ লাখ, ইয়েমেনের ২২ লাখ, নেপালের প্রায় ১২ লাখ, সুদানের ১১ লাখ, সিরিয়ার প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার এবং শ্রীলঙ্কার প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার নাগরিক সেখানে বসবাস করেন।
জিসিসির ছয়টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌদি আরব। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ, যার মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ। সৌদি আরবে বসবাসরত বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রায় ২৫ লাখ ৯০ হাজার, ভারতীয় ২৩ লাখ ১০ হাজার, পাকিস্তানি ২২ লাখ ৩০ হাজার, ইয়েমেনি ২২ লাখ ১০ হাজার, মিসরীয় ১৮ লাখ এবং সুদানীয় প্রায় ১০ লাখ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই জিসিসির দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। এখানে ভারতীয় প্রায় ৪৩ লাখ ৬০ হাজার, পাকিস্তানি ১৯ লাখ, বাংলাদেশি ৮ লাখ ৪০ হাজার, ফিলিপাইনি ৭ লাখ ৮০ হাজার, ইরানি ৫ লাখ ৪০ হাজার এবং মিসরীয় প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার নাগরিক বসবাস করেন।
কুয়েতের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ। দেশটিতে ভারতীয় প্রায় ১০ লাখ, মিসরীয় ৭ লাখ, বাংলাদেশি ৩ লাখ ৫০ হাজার, ফিলিপাইনি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার, পাকিস্তানি প্রায় ২ লাখ এবং নেপালি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার।
ওমানের জনসংখ্যা প্রায় ৪৭ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ২০ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক। এখানে ভারতীয় প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার, বাংলাদেশি প্রায় ৭ লাখ ১৮ হাজার, পাকিস্তানি প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার, মিসরীয় প্রায় ৪৬ হাজার এবং ফিলিপাইনি প্রায় ৪৫ হাজার।
কাতারে প্রায় ২৮ লাখ ৭০ হাজার বিদেশি কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৭ লাখ, বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ, নেপাল থেকে ৪ লাখ, মিসর থেকে ৩ লাখ, ফিলিপাইন থেকে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার এবং পাকিস্তান থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নাগরিক বসবাস করেন।
বাহরাইনে বসবাসকারী বিদেশিদের মধ্যেও ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। দেশটিতে ভারতের প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার, বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার, পাকিস্তানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার, ফিলিপাইনের প্রায় ৮০ হাজার, মিসরের প্রায় ৬০ হাজার এবং নেপালের প্রায় ৩৫ হাজার নাগরিক কাজ করছেন।