চট্টগ্রাম, ১১ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ছয়টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও চারটি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সকালে বন্দর সূত্র জানায়, এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে।
চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের জ্বালানি সরবরাহ পাইপলাইনে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে আপাতত জ্বালানি সংকটের তেমন আশঙ্কা নেই।
তবে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি সংকটের সুযোগে জ্বালানিবাহী জাহাজে নাশকতা চালাতে পারে—এমন শঙ্কা থেকে বহির্নোঙরে থাকা জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড–কে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় মোট ১৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে এলপিজিবাহী দুটি, এলএনজিবাহী পাঁচটি, গ্যাসবাহী দুটি, হাইপার সালফারবাহী দুটি, কেমিকেলবাহী একটি, ক্রুড অয়েলবাহী একটি এবং ডিজেলবাহী দুটি জাহাজ রয়েছে।
সবশেষ গত সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে ‘শিউ চি’ ও ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের দুটি ট্যাংকার। ‘শিউ চি’ জাহাজে ২৭ হাজার ২০৪ টন এবং ‘লিয়ান হুয়ান হু’ জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার তিন হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে ‘এসপিটি থেমিস’ নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ ‘র্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চ্যাং হ্যাং হং টু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার প্রায় ৬০ হাজার টন করে ডিজেল নিয়ে বন্দরে নোঙর করবে।