প্রকাশ , ০১ এপ্রিল ২০২৬
দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়া এবং যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ মানুষ।
সরকার দাবি করছে, দেশে বর্তমানে এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কমিটি আরও দেড় লাখ টন জ্বালানি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প দিনের বড় অংশজুড়ে বন্ধ থাকছে এবং খোলা পাম্পগুলোতেও পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদ্যমান মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, তারা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম তেল পাচ্ছেন। ফলে সারা দেশের দুই হাজারের বেশি পেট্রোল পাম্পের বেশিরভাগই নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে, ডিপো থেকে ট্যাংকলরির ধারণক্ষমতার অর্ধেক তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সংগঠনটি ফিলিং স্টেশনের বিক্রির সময় নির্ধারণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাস্তবসম্মত তেল সরবরাহসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অবৈধ মজুতদারি, কালোবাজারি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে সংকট বেড়েছে। সরকারের হিসাবে, সারা দেশে তিন হাজার ৫৫৯টি অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক হাজার ২৪৪টি মামলা, ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে দুই লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল এবং এক লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
এছাড়া আগামী দুই মাসে রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন জ্বালানি আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ চিঠি দিয়েছে। ভারত থেকে ইতোমধ্যে ২২ হাজার টন ডিজেল এসেছে এবং ৩ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৫৪ হাজার টন জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।