কৌশলগত লক্ষ্য অপূর্ণ, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রাধান্য—বিশ্লেষণে উঠে আসছে নতুন বাস্তবতা
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কি আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ব্যর্থতার দিকে এগোচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে উঠছে। সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে ইরানের প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদন
বিশ্লেষক হার্লান উলম্যান তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করা।
তবে এখন পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ইরান এখনো উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধরে রেখেছে এবং আঞ্চলিক প্রভাবও বজায় রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যাতে ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জন হয়নি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার আলোচনায়ও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় কূটনৈতিক পথ আপাতত অচল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেওয়া জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায়, প্রণালি বন্ধ করে ইরান কার্যত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিকভাবে এগিয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। সেই একই কৌশলগত ভুল—অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ভুল পূর্বানুমান এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার অভাব—ইরান যুদ্ধেও পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে যুদ্ধের বাস্তবতা এখন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র দুটি কঠিন বিকল্পের মুখে—ইরানের শর্ত মেনে সমঝোতায় যাওয়া, অথবা সংঘাত বাড়িয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।
এ অবস্থায় যুদ্ধের সামরিক ফলাফলের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ জনমত—সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
সূত্র
আল জাজিরা