কক্সবাজার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
একাত্তরে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, তারাই নতুন রূপে ফিরে এসে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই শক্তির হাতে দেশবাসী আদৌ নিরাপদ কি না।
শুক্রবার কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিশ্বাসপাড়ায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা। তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের হাতে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। সেই ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস তাদের পূর্বপুরুষরা ভালোভাবেই জানেন। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি এবং স্বাধীনতা চায়নি, তারাই তখন এসব নির্যাতন চালিয়েছিল।
তিনি বলেন, “আজ তারাই নবরূপে ফিরে এসে নির্বাচনের মাঠে দাঁড়িয়েছে। তাদের হাতে এ দেশের নাগরিক, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, কতটা নিরাপদ—এই প্রশ্ন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা জরুরি।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি এ দেশের সব মানুষকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
“আমরাও কোনো জাতি, ধর্ম বা বর্ণভিত্তিক বিভক্তি চাই না। সবাই মিলে বাংলাদেশি হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই,”—বলেন তিনি।
পেকুয়া উপজেলা বিশ্বাসপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দময় বিশ্বাস তিলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, বিশ্বাসপাড়া কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক রমেশ বিশ্বাস, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুমন বিশ্বাস, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অংতোয়াইচিং রাখাইনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।