ঢাকা, ২৯ মার্চ ২০২৬
নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর হলেও পুঁজিবাজারে দ্রুত নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আইপিও খরা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও দেশের শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহসাই হচ্ছে না। প্রায় দুই বছর ধরে চলমান আইপিও খরা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আইপিও অনুমোদনের পরও নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা আরও বাড়ছে।
নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, আইপিও আবেদনের জন্য কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ১২০ দিনের বেশি পুরোনো হতে পারবে না। পাশাপাশি অর্ধবার্ষিক বা প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে আইপিও আবেদন করা যাবে না।
আয়কর পরিপত্র ২০১৫ অনুযায়ী, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বছর শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। অন্যদিকে অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি ৩০ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের নিজস্ব হিসাব বছর অনুসরণ করতে পারে।
এ হিসাবে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে আইপিও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানির ক্ষেত্রে মার্চে হিসাব বছর শেষ হলে জুলাই পর্যন্ত আবেদন করা সম্ভব।
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় তাদের আইপিওতে আসার সম্ভাবনা কম। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বশেষ অর্থবছরে মুনাফা থাকা এবং সঞ্চিত লোকসান না থাকার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান এই শর্ত পূরণ করতে পারছে না।
অন্যদিকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও তালিকাভুক্তির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে তারা শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সরকারের অংশীদারিত্ব থাকা কিছু কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকেই কিছু আইপিও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব কোম্পানি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে আবেদন জমা দিতে পারবে।
তবে আবেদন জমার পর যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিতে দীর্ঘ সময় লাগে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক ক্ষেত্রে দেড় থেকে দুই বছর সময় নেয়।
নতুন বিধিমালায় স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে হবে। এরপর বিএসইসি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। তবুও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে কয়েক মাস সময় লাগে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কারণে ২০২৬ সালেও নতুন কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আইপিওবিহীন দীর্ঘ সময় পার করার একটি নজির তৈরি হতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সর্বশেষ পাঁচটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছিল—সিকদার ইনস্যুরেন্স, এনআরবি ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেস্ট হোল্ডিং এবং টেকনো ড্রাগ। এর পর আর কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, “বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল। বহুজাতিক কোম্পানিও বাজারে আসতে আগ্রহী নয়।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ সুদের হার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে গেছে। ফলে ভালো কোম্পানির আইপিওতে আসার সংখ্যা সীমিত।”
এদিকে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে নানা শর্ত ও সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শক্তিশালী কোম্পানি বাজারে না এলে শেয়ারবাজারের বর্তমান সংকট কাটবে না।