নিজস্ব অনুসন্ধান প্রতিবেদন |
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর এক তথ্য—দেশের ভেতর থেকে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ও ভিনদেশি কিলিং স্কোয়াড মিলে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এই চক্র শুধু রাষ্ট্রদ্রোহেই নয়, গণহত্যা ও স্বজাতি নিধনের মতো জঘন্য অপরাধেও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েক মাসের অনুসন্ধান, সাক্ষ্যগ্রহণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা কৌশলে সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থান নিয়ে সামরিক শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে, সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছে এবং রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তদন্তে পাওয়া যায়, তাদের একাংশ ভিনদেশি “কিলিং স্কোয়াড” বা হত্যাকারী দলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে একাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে।
তদন্তে আরো বলা হয়, এই চক্র সেনাবাহিনীর ঐক্য ভাঙা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে। বহু নিরপরাধ সদস্যকে ফাঁসানো, হুমকি দেওয়া ও দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ভেতর থেকেই বাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে তারা।
চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আইনের শাসন অনুযায়ী তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা বাধ্যতামূলক। আদালতই নির্ধারণ করবেন তারা সাবজেলে থাকবে না অন্য কোনো কারাগারে।”
তিনি আরও বলেন,
“যারা সেনাবাহিনীর মর্যাদা নষ্ট করেছে এবং রাষ্ট্রদ্রোহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের ক্যান্টনমেন্টে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে প্রমাণ ধ্বংস ও তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাটি শুধু সামরিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়েও অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি এই চক্রের পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়, তবে দেশের সামরিক ইতিহাসে এটিই হতে পারে অন্যতম বড় রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র।
এদিকে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রদ্রোহ, গণহত্যা, ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার” ধারায় অভিযোগপত্র প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই ধরনের অনুপ্রবেশ ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম যদি সময়মতো শনাক্ত না হতো, তবে পুরো সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রব্যবস্থাই গভীর সংকটে পড়ত।”
দেশজুড়ে এখন সাধারণ জনগণের মধ্যে দাবি উঠেছে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে প্রকাশ্য আদালতে বিচার করার।