ঢাকা | ১৭ মার্চ ২০২৬
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে এখন শীর্ষে রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য খাত। এ খাতে দেওয়া মোট ঋণের ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা অন্যান্য সব খাতের তুলনায় সর্বোচ্চ।
ডিসেম্বরভিত্তিক ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং পুরো ব্যাংকিং খাতে গড় খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, ফলে বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল, জ্বালানি, পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও পরিচালন খরচ বেড়েছে।
ডলার সংকট ও এলসি খোলার জটিলতা আমদানিনির্ভর ব্যবসাগুলোকে আরও চাপে ফেলেছে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ঋণের বোঝা বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক হিসাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে কৃষি, মৎস্য ও বন খাতে, যেখানে হার ২৮ দশমিক ২০ শতাংশ। নির্মাণ খাতে ২৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, পরিবহন খাতে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ভোক্তা খাতে ৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক খাতে খেলাপির হার ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং বিবিধ খাতে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ।
বড় অঙ্কের ঋণেই খেলাপির হার বেশি দেখা গেছে। ডিসেম্বর শেষে ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার ঋণে খেলাপির হার ছিল ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণে ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ঋণে ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণে ৪৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে।
৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ, যা মোট ঋণের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তবে নীতি সহায়তায় পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে খেলাপি ঋণের হার।
অন্যদিকে, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণে খেলাপির হার তুলনামূলক কম—১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ১ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণে খেলাপির হার ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ।