ঢাকা — ২১ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশবাসী একটি ভয়ভীতিমুক্ত, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়—যেখানে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার মিরপুরের কাফরুল থানার পীরেরবাগ এলাকায় বিএনপির হামলায় জামায়াত ও শিবিরের অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ও বিকেলে দুটি পৃথক ঘটনায় জামায়াতের নারী কর্মী ও দায়িত্বশীলদের ওপর বেদনাদায়ক হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের আবদ্ধ করে রাখা হয় এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তারা মুক্তি পান। এরপরও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মব তৈরি করার কোনো অধিকার কোনো ব্যক্তি বা দলের নেই। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘নোংরা মব রাজনীতি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ব আজ অনেক সচেতন। মব তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ। জনগণ অতীত ও বর্তমান বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে তারা বিশ্বাস করবে। জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়—যেখানে ফ্যাসিবাদের আর কোনো জায়গা থাকবে না।
তিনি ৩০০ আসনের সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। জনগণকে পছন্দমতো ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে সহযোগিতা করা ও অভিনন্দন জানানো সব দলের দায়িত্ব। তবে এখনই যদি সবকিছু ওলটপালট করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে পরিবর্তনকামী জাগ্রত যুব সমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ভোটের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন যদি আবার সেই চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে। তিনি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে সবার জন্য সমতল মাঠ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের দলীয় পরিচয় না দেখে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় এখনই মামলা-মোকদ্দমায় যাওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে না জামায়াত। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে সেই পথেও যেতে হতে পারে। সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই এসব মোকাবিলা করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমির বলেন, মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া, মসজিদ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চান না তারা। মানবিক বাংলাদেশ, যুব সমাজের কর্মসংস্থান ও নারীদের নিরাপত্তার যে অঙ্গীকার জামায়াত দিয়েছে, সেটাই যদি কারও অস্বস্তির কারণ হয়, তাহলে আরও ভালো কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে আসার আহ্বান জানান তিনি।