স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪৬ ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনটি এখন রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ মোতাহার হোসেন তালুকদার। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মুফতি মাহমুদউল্লাহ ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় হয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এই আসনে শক্ত অবস্থানে থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
বিএনপি প্রার্থী: স্থানীয় মাঠ-সংগঠন নির্ভর শক্তি
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ফুলপুর-তারাকান্দা অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রাসরুট কমিটির সঙ্গে তার সর্ম্পক দৃঢ় বলেই স্থানীয় বিশ্লেষকদের মত। গণসংযোগ, সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম এবং পূর্বের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তার শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে একাধিক নেতৃত্ব সংকটের পর এবার বিএনপি এই আসনে ভোট ব্যাংক সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তাকে সামনে রেখেছে।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী: ধর্মীয় ভোটব্যাংকে নির্ভরতা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মাহমুদউল্লাহ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় আলেম সমাজের সমর্থনকে সামনে রেখেছেন। তার প্রচারণায় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক রাজনীতির বার্তা বেশি জোর পাচ্ছে।
আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার ইসলামী দলের সমর্থনশীল ভোটগুলো আরও সক্রিয় হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
জামায়াতে ইসলামী: নীরব কিন্তু সংগঠিত অবস্থান
জামায়াতে ইসলামী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো, বিশেষ করে তরুণ ও প্রচার-শিক্ষিত ভোটারদের কাছে তাদের প্রভাব বিবেচ্য বিষয়।
যদি জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়, তবে এই আসনের ভোট বিভাজনে তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
জনমনে প্রশ্ন: কে হবেন ‘জনতার প্রতিনিধি’?
স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার-মহল্লা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবখানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু একটাই কে নেতৃত্ব দেবেন ফুলপুর-তারাকান্দাকে আগামী পাঁচ বছর?
ভোটাধিকার, উন্নয়ন, সড়ক-বান্ধব অবকাঠামো, বন্যা-নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য এখন এই আসনের জনগণের মূল প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের মতে
সংগঠিত দল ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক এই আসনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে।
প্রার্থী ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের লোকসংযোগ নির্বাচন ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধর্মীয় দল, মূলধারার দল এবং স্বতন্ত্র ভোটার তিনটি ভোট ব্যাংকের অবস্থানই এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ও প্রচারণা আরও জোরদার হওয়ার পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। তবে আপাতত বলা যায়, ১৪৬-ফুলপুর-তারাকান্দা আসনটি এবারের নির্বাচনে নজরকাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
জনগণ তাকিয়ে আছে এই আসনের ‘জনতার কর্ণধার’ কে হয়ে উঠবেন আগামী দিনের নেতৃত্বের মুখ?