প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকার বেশি আমানত নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘গ্রাম জনতা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হালিম পলাতক রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার দিঘীরহাট বাজারে অবস্থিত সমিতির কার্যালয় বর্তমানে তালাবদ্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে ‘সহজ বিনিয়োগ প্রকল্প’ নামে একটি স্কিম চালু করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিল।
অভিযোগ রয়েছে, জমানো অর্থের ওপর অতিরিক্ত মুনাফা বা লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে আকৃষ্ট করা হয়। এভাবে প্রায় শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করে সমিতিটি।
সম্প্রতি কয়েকজন আমানতকারী তাদের লভ্যাংশ চাইতে গেলে এমডি আব্দুল হালিম টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রাহকদের না জানিয়েই তিনি ও তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন জানান, “মাসে ভালো লাভের আশায় নিজের জমানো টাকা, ব্যাংক ঋণ এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া টাকাসহ মোট ৯ লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন অফিস বন্ধ, মালিকেরও খোঁজ নেই।”
আরেক গ্রাহক সালমা বেগম বলেন, “চিকিৎসা ও চাষাবাদের জন্য জমিয়ে রাখা টাকা ছিল। এখন সব শেষ হয়ে গেছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল হালিম উপজেলার কোচকুড়িলা গ্রামের অলিমুদ্দিনের ছেলে। তিনি একসময় একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হয়নি।
সাপাহার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এস এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে এবং জেলা অফিসে শুনানি হয়েছে। তদন্ত শেষে সমবায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি
ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা পলাতক এমডিকে গ্রেপ্তার করে আমানতের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।