নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ঘোষিত ২৪ দফার তৃতীয় ধাপে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। দলটি বলছে, দেশের গণতন্ত্র আজ কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা হারিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন “গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণ” ও “প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার”।ইশতেহারে বলা হয়েছে, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে হলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিরপেক্ষ, মানবিক ও গণমুখী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের সেবাকে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনসিপি বিশ্বাস করে, জবাবদিহিতার অভাবই বর্তমানে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার মূল কারণ। তাই তারা সংবিধানিক ও নিয়মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছে।দলটির মতে, “গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চা।”এছাড়া নির্বাচন কমিশনের আইনি কাঠামো ও গঠন প্রক্রিয়ায় মৌলিক পরিবর্তন আনার কথা বলেছে এনসিপি, যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।
একই সঙ্গে তারা প্রস্তাব করেছে জাতীয় নির্বাচনে “ভালো টাকার ক্লাস” বা সম্পদ-সংশ্লিষ্ট বৈষম্য দূর করতে প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা সমতা আনা হবে, যাতে সাধারণ মানুষও সহজে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই প্রস্তাবগুলো বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। যদি এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও নির্বাচনব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মতে, “নতুন বাংলাদেশ” কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন নয় এটি হবে একটি জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণভিত্তিক এবং মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের রূপরেখা।