প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুই বছরে তিনবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর রোববার থাইল্যান্ডের জনগণ ভোট দিয়েছে নতুন সরকার গঠনের জন্য। মুখোমুখি হয়েছে প্রগতিশীল পিপলস পার্টি এবং রক্ষণশীল শিবির। কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা এখনও দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব রেখেছেন।
নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলা এবং অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় বহুজাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সমস্যা সমাধান।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রবৃদ্ধি দুর্বল, পর্যটন খাত কোভিড-পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসেনি, এবং দ্রুত উন্নয়নশীল ভিয়েতনাম বিদেশি বিনিয়োগে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলাফল ৩ বছরেরও কম সময় আগে হওয়া বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। সেখানে পিপলস পার্টি সর্বাধিক ভোট পেলেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। পরবর্তীতে থাকসিনের ফেউ থাই পার্টি তৃতীয় স্থান পাওয়া ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করে।
সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে সংসদ আনুতিন চার্নভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে, যিনি দুই বছরে দেশের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।
রাজনীতি বিশ্লেষক নাপোন জাতুসরিপিতাক বলেন, “থাইল্যান্ডে নির্বাচনের ফল এখন কার্যত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে আলাদা হয়ে গেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।”
জনমত জরিপে পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে, তারা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে পারে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি। ফেউ থাই পার্টির সমর্থন কমেছে এবং তারা এবার মাত্র ১৬% ভোট পেতে পারে।
ভুমজাইথাই পার্টি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে। পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল ও জেনারেলের সংখ্যা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
রোববারের ভোটের সঙ্গে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বহাল থাকায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসা কঠিন। পিপলস পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন প্রায় অসম্ভব।